উদ্ভাস

১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, অক্টোবর ২০১২

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

অমলেন্দু চন্দ


তিনটি কবিতা



দিগ্বলয়

কষ্টের উড়ান পাখা মেলে দিই

কাঁটাঝোপ অস্থির যন্ত্রণার মৃদঙ্গ নিঃশ্বাস
দিগ্বলয়ে মেলে রাখা থ্যাঁতলানো স্বপ্নের কুঁড়ি
অদ্ভুত বিপরীত দুই দিকে উন্মাদ টানটানি করে
এখানে অনন্ত একা চেয়ে দেখে স্বপ্ন আয়নায়.
পারা চটে গিয়ে এক উচাটন ভাঙা চোরা জবালাল পোড়াগন্ধ রূপ -
সময় হাঁটছে একা, বইবার সাধ ছিল তাঁর ...
এখন অন্যত্র থাকে স্বপ্ন সন্ধানে -
যদি কেউ ভেসে যেতে চায়।


আগমনী

এক চিলতে রোদের বাথানে মেঘগুলো
জড় হয়ে টুপ টাপ চুপ চাপ ঘন হচ্ছিল
বিকেলের বারান্দায়...
এক হাতে নেবে আসা আঁধার ছিলিম

অন্য হাতে ডুবে যাওয়া সূর্যের রূপটান আলোর ঝিলিক
দিনটার গভীর আবেশ
সময়ের উড়ান যেন চাঁদের অপেক্ষায় লিপস্টিক ঠোঁট
একবুক জল নিয়ে মেঘগুলো পৃথিবীর দিকে
বড় মায়ায় তাকায়
মাটির অপক্ষা বর্ষার আদর খেয়ে
ধুলো গন্ধ সোঁদা স্বপ্নে ভরে যাবে
পৃথিবী সুধন্যা হবে
সময়ের ঘর তাই মেঘের গম্বুজে


শিল্পী

স্মৃতির চারু ডাক - কিছুটা উসখুসানি - অল্প নাভিশ্বাস
কিছু কিছু স্বপ্ন, প্রেম, কলকণ্ঠ হাঁসি, ব্যাক্তিগত গোপন রমণী -
অতঃপর উপাংশে নগ্নতার মুখ থেকে
পা অবধি খুটিয়ে দেখেছি -
খানদানি চর্যাপদী কদগ্নি মতলব
কিছুটা শিল্পীর চোখ বাকিটা অনঙ্গের অজা ইরাদা
আমি তার সারাৎসারে শুধু ডীপ ইয়েলো ভরে গেছি ...

রাজর্ষি ঘোষ

অনিমিখঃ বিসর্জন


আমার নিজস্ব গান বৃষ্টি হয় না...
আঙুলের কোণে লেগে থাকে ধান দুব্যোর হিমেল গন্ধ;
এক ছিপ মেঘ যেখানে পায়রা হয়ে যায়,
আমি ভেসে থাকি সেখানে আন্তরিক উজ্জ্বল মানচিত্র হয়ে।

আমার সবটুকু দেয়ালা জুড়ে ওদের ছায়া রাজপথ
সৌম্যদর্শন ব্যক্ত ষোড়শী দিন, ধোঁয়াশা
আপক্ক নির্বিকার চেতনা ডানা মেলে রক্তিম আকাশে।

তবুও নিবিড় সম্পর্কটুকু পারদ হলে
ঘুমপরী রাত জাগে অসহায় পাখিদের ঠোঁটে অনিমিখ।
দলছুট ঘর খোঁজে বুনোহাঁস।

তারপর...

বেশ কিছু আমিত্ব বিসর্জনের পর ঘুম ভাঙলে কাশফুল,
সে আসবে বিধবার বেশে মাঠ সাদা করে।
আগমনী ক্ষয়ে গেলে দূষিত জলে
এক ঝাঁক ফ্লেমিংগো আজ পরিযায়ী হবে উত্তর কলকাতায়।

আমি বিষাক্ত পৃথিবীর মানুষ।
কার্বন মনোক্সাইড শ্বাস ঠেলে হেঁটে যাব অমরত্বের পথে,
জ্যামিতিক চক্রব্যূহে।

আমাকে সীমানা দিও না।

অলক বিশ্বাস

রাধা


তোমার সাথে যাচ্ছি আমি চাঁদ
পড়েছি বাধা তোমার পাতা ফাঁদে
হৃদয়টুকু আছে বলেই জেনো
এই জীবনে তাই হয়েছ রাধে।

একটু একটু হচ্ছি উজাড় যত
সকাল, দুপুর কিম্বা গভীর রাত
দেখছি আছো কান্না এবং গানে
নিঃস্ব হতে তোমার হাতে হাত।

অনুপম দাশশর্মা

বিষ-দ্রোহ


দ্রোহকাল ক্ষিপ্ত দাঁতে ভীতি ছড়ায় আলজিভে
নিষ্পাপ শিশুমন বাঁকা সভ্যতায় বাড়ে
কেন আজও আত্মা বোঝে না
মাতৃজঠর থাক মঙ্গলকরে!
জানলার শিক ধরে আকাশে শান্তি খোঁজে
কেঁপে ওঠা অশক্তা বৃদ্ধাবাসে।

কুশিক্ষার শেকড়ে সুপ্ত অমানুষের চেহারা
মাতৃদুগ্ধ আর পারে না সুস্থ সমাজকে উপহার দিতে
স্বার্থপর আর্থব্যবস্থা আস্থাহীন সাম্যের যুক্তিতে,
তবু সন্তান থাক দুধে ভাতে কেন চাইবে না
নাড়ি ছেঁড়া প্রাণে!

তাই বুঝি আকাশ মেঘলা হয় পৌঢ়ত্বের উপবনে
গোনাগুনতি মার্বেল ঠাঁই চিরকাল থাকে
শুধু শীর্ণকায় দুই হাত বৃদ্ধাবাসে কাঁদে..!

মিলন চ্যাটার্জি

ধ্বস্ত


আমার নষ্ট ঘরে বসে আছে
আমার মত কেউ !
হাতের স্থানে হাতই আছে ,পায়ের স্থানে পা
আপন মনে লুকিয়ে থেকে ,সুর সাধছে সা ।

আমার নষ্ট ঘরে বসে আছে

আমার মত কেউ !

রত্নদীপা দে ঘোষ

পনেরো লাইন বৃক্ষ


নোম্যান্সল্যান্ডের বৃক্ষ বেষ্টন করে থাকে মেঘশাঁসবীজ
শিশু বৃক্ষের গায়ে দোলনাকেবল মিছিলরেণু
বৃদ্ধ বৃক্ষের ছাল চামড়া দিয়ে ব্যালট আর বুলেট বানায় মানুষ
আলস্য ভেঙে নদী থেকে উঠে আসা বৃক্ষের সীমান্ত ক্লোরোফিল
একঝাঁকবৃক্ষ + একতিলআলো = কিউসেক জলজোনাকি
বৃক্ষ পাখিসমাজের একমাত্র মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং
দু ঘোড়সওয়ারের মাঝখানে বৃক্ষ তিন শাখার আস্তাবল
মরুবৃক্ষের পাতারা ঘুমন্ত গুটিপোকা
বৃক্ষের দুই কাঁধে চাঁদ ওঠার শব্দ
দুটি বৃক্ষের সফল সঙ্গমে জন্ম ন্যায় জেনরোদ
ট্রামলাইনে বয়ে যাওয়া বৃক্ষ ভোর খায় পেটচুক্তিতে
মেয়েটির লাল ঠোঁটে বৃক্ষের সীলমারা চিঠি
বৃক্ষের সিন্দুকে তরল সুতোর মৌচাক
বসন্তবউরির ঝড়ে বৃক্ষের মাইওপিক চোখ থেমেছে শূন্যে
বৃক্ষ ইশ্বররমণীর অত্যন্ত সাধের মলিকিউলার কিচেন

সুমিত রঞ্জন দাস

আশা


অনামিকা, অনিকেত, এরা সবাই জাল বুনে গেছে
ঝরা পাতায়; শুকনো দেহে অতীতে যাবার আগে
এরা বোঝে ভালোবাসা, মৃত্যুর স্বাদ
স্মৃতি হয়ে প্রেমে, কালের স্রোতে;

আজ শহরে রাত বদলায় তন্দুরী ওভেনে
শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় আর
কামিনীর কোলে,
শিশির ভেজা পিচ রাস্তায় ...

একদিন দেখে নিও এরাই আবার মানুষ হবে
গোলাপের পাপড়ির খবর শোনাবে।

মৌমিতা মণ্ডল

আগ্রাসন


ইদানীং তোমাকে ছোবার ইচ্ছাটা দেবোত্তর সম্পত্তি
আগ্রাসনের মত বাড়ছে , এসব বললেই দাঁতহীন
ঠাকুমা বিয়ের প্রস্তাব এলে যেমন হাসেন অবিকল
তেমন হেসে উঠবে , আমিও মাজা পোকাই যে ধান
নষ্ট ক'রে কৃষি বিশেষজ্ঞের মত বোঝাতে চাইলে তুমি
কৃষকের মত মাথা নেড়ে বলবে রাখুন এসব --

প্রত্যেক বলিষ্ঠ পুরুষই বোধহয় কোথাও এসে ঘি এর
মত গলে যেতে চাই - মমতায় কিম্বা উত্তাপে
আর প্রজন্ম ধরে কেঁচোর অন্ধ অনুকরণে
ঢুকে যেতে চাই নারীর অন্দরে ; নাহ , এসব বলিনা
তোমাকে , শ্যাওড়া গাছের পেতবুড়ি ভয়ই দ্যাখাই না শুধু
কাকে প্রেম বলে কাকে বলে মায়া মনে রেখেছে পূর্বজন্মের ।

সমগ্র পুরুষালী অভিশাপ নিয়ে দৃষ্টিফেলি লাবণ্যের সৃষ্টিতে
তুমি গর্হিত কাজ ভাবো , আমি দৃষ্টিতে সুখ লিখি !

শুভ বাবর

বিষ দাঁতের লাল সিগন্যাল


কেউ একজন পিছু ছাড়েনা নজরবন্দি প্রতিদিন

কুয়াশাতাঁবু পথের সীমানা দেওয়াল ডিঙ্গিয়েই রোদ্দুর
আগলে রাখা ছায়াবন্দি
হিংসেগুলো জ্যামিতিক ত্রিভুজ নদী ,
বাতাসের ক্যাম্পে নাগরদোলা মদ্যপ মদালসা ঘূর্ণি ,
জলজ প্রান পকেটে
দমবাজি শিরায় উপশিরা টান টান উপবাস
জোয়ার এলেই মাছধরা চলে উৎসব
আষাঢ়ের মানেই ছিঁচকে কাঁদনে ৷

মাঝি গুণ টানে কিনারের সন্ধান

দুআঙ্গুলের ফাঁকে বিষমাখা তীর , বন্ধনহীন নিহত গোলাপ
চোখে ভেসে ভেসে উঠে গতকালের রাত ,খাঁচায় ময়না পাখি
তুমুল বৃষ্টির নিশানায় মধুবাতাস
জলের শব্দ কান পেতে শুনে জলকেলী তরঙ্গ সহচর
টুং টাং কম্পনে
গোলক ধাঁধাঁর পেন্ডুলাম দুলে দুলে রুদ্রমূর্তি
শিকারি গেরিলার পালায়ন খুব ভোরে
প্যারাসুটে পাখির ডানা চিৎকার চোখের নিমিষে সীমানা পাড় ৷

চাঁদতারা উঠোনে সূর্য নাচবে ,পিষবে বিষ দাঁতে নীল কাঁমড়

আগুন আলোর
ধ্যানে প্রতিক্ষার রেশমঘর অন্ধকারে জ্ঞানপাপী শিকড়
বাস্তুহারা ইশারায় ফেলে দাও শক্তি তরবারি জঙ্গল
হারামী লাল ক্ষুধা
সোনাঝরা কুহেলির ভুল ইশারায় স্বপ্নপূরন
জাহাজভর্তি প্রেম নিয়ে পিপীলিকা নোঙ্গর মনিমাণিক্য ভরপুর
মাস্তুলে রক্তজমা হানিমুন
নিত্য শৈশবে জমকালো ভূত পাহাড়ে ঝর্না জমজ প্রেম ৷

অলীক রৌদ্রছায়া নিদ্রাকুসুম যমকালো মোঘলের তরবারি

আঙুলে আঙুলে ফুটে আঙুল কারুকাজ
বুকের ভিতর সন্ধি ডিঙিয়ে সমুদ্রগন্ধ ভরা দূঃসাহস
জলে পাতালে শৈশব কুড়ায় কাঁঠবিড়াল
ঝর্নার অস্থির কন্ঠ ছূয়ে নেভানো আগুনে দমকলের লাল সিগন্যাল ৷

দূর্গা রাই

উচাটন


ভালোবাসা নেই, ধূসর আঁধারে
হলদেটে প্রেমের সিম্ফনি,
আষাঢ়ের নীরব নির্ঝরে
বিষণ্ণ জনপদ জানে
একদিন ওষ্ঠ ও মদিরার আলোড়নে
ছিল চেতনার পূর্ণ গ্রাসি শিহরন।
কুহু যামিনীর বুকে
চাঁদের ছুঁয়ে যাওয়া,
গলে যাওয়া, ভেসে যাওয়া
বিবাগী উচাটন।
চাঁদ ছিল, রাত ছিল,
ছিল আলিখিতি চুমু
আকাশের ক্যানভাসে আনমন।
বুনো বাসনায় আগ্রাসি জিতে যাওয়া
তাও বারে বারে হেরে যাওয়া
আমরণ
ভালোবাসা নেই, তাও অকাতরে
ঝরে পড়ি ভালবাসাহীন
স্মৃতির অথই গহ্বরে ।

ধ্রুব

ইচ্ছে, মর্জি, উপেক্ষা আর বিনোদন



কি বলব? অনেক কথা পাল্টায়, মনে হয় যেন ফিল্টারে মোড়ানো
আমি ছোট ছোট ছন্দে পড়া বৃষ্টি দেখি
লেম্প পোস্টের আলো একলা ভিজে উদাস মনে
আমাদের ইচ্ছে, মর্জি, উপেক্ষা আর বিনোদন..

বয়সগুলো লজ্জাহীন , আর মাতাল রাত অন্ধকার তীর্য
বেস্ততা, সৃতির পাতা একসাথে ডুব, প্রমোদিনী নেশা
কামনা- চাহিদার ছ - রা- ছো - ড়ি, একমুখী ছলনা
জীবন রং উজ্জল, বাহারী, ক্লান্তিহীন - রুপরেশ.

চার পায়ের আবোল-তাবোল ছাপ, নিজের সময় আর জগত
জলছে রাত্রি পেয়ালা ভরা, রঙিন দেয়াল
চোখ ঘুমহীন উথাল পাথাল নজর ছন্দে
রাত আজ সাবালকের, ফুর্তি আর লীলাখেলার.

রাস্তা ভিজায় ছন্দের বৃষ্টি, রাত পাখিরা বাউন্ডুলে
ঘড়ির কাটা ইচ্ছেমতন এদিক ওদিক যৌবন টানে,
বাহারী লেবাস, কড়া পারফিউম, সাদা ধোয়া
সুখ-সপ্ন শান্তি নিখোজ , তীব্র ক্ষুধা
রক্তনাচ শরীর দোলে ঝিম ঝিম আর ইতিহাসে
ছটফট করে পিপাসার চোখ- কান-হাত-ঠোট.

বলা শেষ? কই না-তো, এ কেবল শুরু
পুড়বে মানুষ আগুন - জলে তুই আমি আমরা,
বেহায়া বয়স চাহিদার আর হিসেবের
সব ফেলে যখনি পালাই, অন্ধকার ডাকে তারস্বরে
আমি নিরব রাত চাই ঝুম ঝুম বৃষ্টির সাথে
আমি আসছি ফিরে ছন্দে তালে আর আমাতে
হিসেবহীন আবেগের এক পশলা চাহনিতে, নিরন্তর.

সৌমিত্র চক্রবর্ত্তী

দুধসাদা দুপুরের কাব্য


নাচতে থাকা লক্ষ পাতায়
ঠিকরে ওঠে রোদ্দুর
আকাশ কাঁপে তিরতিরিয়ে
মেঘমার্চের ফাঁকে

ভর্তি পেটে দিবানিদ্রায়
ঝুলছে কয়েক পাখি
কয়েক আবার ঝিলমিলিয়ে
রামধনুকে খোঁজে

দশতলার ন্যাড়ামাথায়
উকুন মাফিক মানুষ
বেরিয়ে থাকা ন্যাংটা শিক
কাকে চ্যালেঞ্জ করে

তিন দুগুনে ছক্কা ফেলে
লুডোর দান বাতিল
বস্তাপচা সিরিয়ালের
গন্ধ ছড়ায় ঘরে

টিনের চালে ছটপটিয়ে
গিরগিটিরা সাক্ষী দেয়
হাওয়ার দল হা হা করে
গরম বমি করে

অরিন্দম চন্দ্র

কালসাপ


স্বপ্নে মুখোমুখি আমরা-
অচিনপুরের সব ঘড়ি গলে যায়,
টুপটুপ করে খসে পড়ে
ঘন্টা,মিনিট,সেকেণ্ড...

তুই আর আমি সাদা-কালো
নিসর্গে হারিয়ে যাই,
সাপের দল ঘুরে ফিরে
মিলে যায় সবুজ আঁধারে...

দংশনে বড় বিষ তোর-
ঝিম ধরা স্মৃতিমেদুরতায়
ডুবে যেতে যেতে
একবার
শুধু একবার তোর মুখ দেখে নেই...

প্রদীপ কবীর খান

যৌনঅক্ষর

আমাদের পিঠ চাপড়ানো গুলো ছিল
অনাধিকার চর্চা ,
তবুও সময় পেলেই এ ওর পিঠ চাপড়ে দিয়ে সতেজ
রাখতাম রক্তের বেগ ,

সে সময় বুকের ওপর পা তুলে ঈশ্বর বিদ্বেষী
গুপ্ত অক্ষর সাজিয়ে সমাজচর্চা
মুধুচন্দ্রিমা বলতে যেটুকু ছিল - সে রাত এবং
মৈথুনকৃত কৃতার্থ একগাল গালি

আমাদের সংগ্রাম ছিল আমাদেরই রক্তের পূর্ব শক্তির সঙ্গে
জিন বিপর্যয় বুঝতে না পেয়ে
যত রাজা নামিয়েছি অক্ষরের কারাগারে

তারা এবং সময়
আমাদের ফেলে রেখে ছুটছে আর ছুটছে
এই যৌনঅক্ষর গুলো - দ্যাখ এখন সঙ্গী বিহীন

কাশিনাথ গুঁই

পঞ্চভূত

এমন কেউ কি হতে পারে না
ভালবাসা না দিক তবু
কাছে ডেকে করবে না ছলনা।
নিজের সময় কাটাতে খেলিয়ে
দিন অবসানে ছুড়ে দেবে না,
ময়দানের আঁধার কোণে সংগোপনে।
ভালবাসার আগুনে কলিজার রসরক্ত
ভেজে টোষ্ট বানিয়ে রিক্ত অংশটা
চাপা দিয়ে দেবে বঞ্চণার জঞ্জালে।
কেউ যদি এমন কোথাও আছে
কথা দিচ্ছি ভালবাসতে হবে না আমাকে
শুধু একবার কাছে এসে মুখ
তুলে তাকাবে আমার চোখে।
তারপর আমি হব ইতিহাস
ওই দৃষ্টিতে এক মহাকাব্য লিখে
মিশে যাব মহাকালের পঞ্চভূতে।

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

প্রতিদিন বিকেলের আলো


বিকেল ছোট হয়ে আসে…..
দুপুর
অল্প একটু আলো
ধীরে ধীরে সন্ধ্যে নামে
মনকেমন বিষন্নতা একপাশে পড়ে থাকে ।

এখন বিকেল নেই

ফুটবলের গায়ে লেগে থাকা রোদ
জানলায় উঁকি মারা লাজুক রোদ
স্কুল ফেরত বাস থেকে নেমে পড়া রোদ
ওরা সবাই দূরের কোন অফিসে কাজ করে ।

কেবল একটি রবিবার থাকে বিকেল দেখার

মানুষ আজিজ

একদিন বিষন্নতা


বহুদুর চলে গিয়ে ভাবছি
শূন্যতার ভেতর একদিন ক্রোধ জম্মায়
রটে যায় বহু দিনকার জমানো গল্প
বাজার হয়ে..
স্বপ্ন--শূন্যতার ভিতর বেফাস খুজে বেড়াই
বৃহৎ দগ্ধ হৃদয়ে নদীর কিনারায় বসে
অনুভব করি ,
বেচেঁ থাকার জন্য অনেক কিছুরই
প্রয়োজন ছিল,
যেমন এক খন্ড জমি এবং একটি শান্ত
নারীর হাত, একটি শিশু
অনেক সময় চলে যায়..কাটতে থাকে
মনের ব্যর্থ আবেশ
অতপর প্রতিদিনের মত..হাত বাড়িয়ে
সাহায্য চাই শক্তিহীন, অধম ইশ্বরের কাছে


তারপরও দেখা হবে


যদি দেয়ালের উপাশে থাক,
তারপরও দেখা হবে
যদি নিজেকে বহুদুর পাঠিয়ে দাও ,
তারপরও দেখা হবে
যদি আষাঢ়ের ঝড়ের রাতে আমাকে নাও চাও ,
তারপরও দেখা হবে
যদি বসন্তের ঘ্রাণ ছড়ানো সন্ধ্যায় একটু একা থাকতে চাও,
তারপরও দেখা হবে
যদি শীতের কুয়াশার ভিতরে আমাকে সঙ্গী করতে না চাও
তারপরও দেখা হবে
যদি বর্ষার ঝড় ঝড় দুপুরে ..অন্য জনের সুখের পন্য হও
তারপরও দেখা হবে
যদি হেমন্তের হাওয়ার রাতে..আমাকে দুশমন ভাব
তারপরও দেখা হবে
যদি তোমার.. চাদেঁর ছায়াকে,আকাশের মেঘকে, নদীর প্রতাপ কে ভালো না লাগে
তারপরও দেখা হবে
যদি পৃথিবী থেকে নীরবে/নির্জনে চলে যাও
তারপরও দেখা হবে
এবার বল পালাবে কোথায় তুমি? ধরা তোমাকে পড়তেই হবে,
বিশ্বাস কর তুমি তোমার বিবেক কে নিয়ে একদিন আমার সম্মুখে আসবে!!!!


জীবনে ভিন্নতা খুজি


ভোরের শিশির যখন আমার সময় পরিপূর্ন্য করে দেয়..
স্নিগ্ধ আকাশের দিগে..এক দৃস্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখি
কোন অভিমান নেই আকাশে
আকাশের মন আজ সুদ্ধ, সুন্দর
অনেক দিন থেকে আকাশের মত হতে চাচ্ছি
আকাশের মত উদার,প্রশার….
জীবনে ভিন্নতা খুজতে খুজতে
পৌছে যাই….সময়ের অন্য পৃষ্ঠায়
যেখানে ….ইশ্বর ও ভিক্ষুক...

শ্রেয়া দলুই

ঐশ্বরিক

“আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় মাঝে
আর কিছুই নাহি চাই”
আমি দেখেছি তোমার রুপমণ্ডল
সীমান্তে গোধূলি নিয়ে,
রঙ মাখা ছবি
তবু তারি গভীর গোপনে
মননের আঁকিবুঁকি বলে
পেয়েছি তোমায় ছাপিয়ে সূর্য তারার
অনন্ত গতিবেগ
যে স্বপ্নরা আঠা হয়ে লেগে থাকে
মাকড়সার জালে সেখানে টালমাটাল
দ্বৈত সংঘাত ছিঁড়ে যাবে কি সুতার টান
এখনি পল্কা হাওয়ার বেগে ?
জাল তবু বুনে যাই নীরবে।।
আশ্চর্য ধোঁয়াশা; খানিকটা বেদনার ঘোর
চক্রব্যূহে গহীন অবচেতন;
দুর্গম সেই পথ তোমার কাছে যাবার
উজ্জলতার উচ্ছাসে বড় বেমানান অস্তিত্ব
তবু তার ঢেউ ছুঁয়ে যায় চোখের পাতা
গঙ্গার জল নিস্তরঙ্গ,
তবু স্রোত আছে অন্তরে
দুপাশের কান্না ভরা আলোর প্রতিফলনে
ঢেউ ওঠে তার কোলে;
কলঙ্কের ইতিহাস এ শহরের
এ জীবনের বস্তুমুখিনতা ;
তুমি ঢেলে দিয়ে যাও সে অমৃত কথা
কর্ণকুহরে শত সহস্রবার ধ্বনিত হোক
তার প্রতিধ্বনি
সে পারাপারের দক্ষিনাতে
আমার অভিমান গ্লানি মুছে যদি যায়
সেটুকু আশা জড়িয়ে ধরে বাঁচি।
তোমার একটু আশিসে ,
ধুয়ে যায় যদি সকল সঙ্কোচের নেশা
অন্তরমুখীনতা,
তবে মুক্ত করে আমায় কাছে টেনে নাও
তোমার দুবাহু ছুঁয়ে একবার
পেরিয়ে যাব এ মসৃণ অন্ধকার
ব্যর্থ মনস্তত্ত্ব ।
তোমার চরণে দেব অশ্রুজলের
আলো অঞ্জলিতে।
সে অসংযমী নিবেদনটুকু
পুজা বলে ফিরিওনা ।
ভালবাসার ধাপ কেটে তোমার বক্ষপরে
যত সব বৃক্ষ পেলো সূর্যমুখী রসধারা
তারি মূলে যত উষ্ণ প্রানকনা
দিয়েছ ঢেলে নিঃস্বেষ করে সংশয়,
অবিশ্বাসের সব মালা ছিঁড়ে
ফুলগুলো ফুটুক তারা হয়ে
হৃদয় আকাশের নীলে ।
বন্দী হওয়া চেতনায় লাগুক আগুন
মৃত ফল্গুকে যদি চিরন্তন বেগে
ধাইয়ে নিয়ে যায় কালের অনুশাসন,
তবে সে বিজয় অভিলাষী বীরোচিত
ভাব উন্মেষ ভেদ করে উঠুক
আমার নিস্তেজ আসক্তি
জীবনের পরে সফলতার পরে বিস্ময়ের পরে
অম্লান হোক তোমার নিরাকার প্রতিবিম্ব
আমার সরলতায় ।।

উদয়ভাণু

ডাকনাম

আমাদেরও ডাকনাম ছিল -
মেঘ নয় মেঘনাথ ,কপালে তিলককাটা ভানু কবিয়াল
গাড়োয়ান বিশু - শর্ষেগাছ মাথায় নিয়ে ফিরত যে ছেলে
কি যান নাম তার ? ভুলে গেছি ---
একদিন ডাকনাম ছিল

বিশুদ্ধ অক্ষরে কেই বা কার নাম ধরে ডাকে !
কেই-বা মনে রাখে স্মৃতির মত যে স্মৃতি নয় তাকে - , রোদে -জলে
ঘামজ্বরে - কাজে - অকাজে
যারা মরে - বেঁচে থাকে বেছে নিতে আলনার পুরনো জামা
ঝুল বারান্দা থেকে সূর্য উত্তাপ
তারাও ভুলে গেছে
একদিন ডাকনাম ছিল

মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস

আগুন আর ক্ষয়ে যাওয়া ডানার পাখি


মানুষ দেখলেই ইদানীং পরিচিত মনে হয়,
মনে হয় আরে এইতো সেই
যাকে আমি খুঁজেছিলাম বহুদিন আগে,
যে ছিল আমার অতি আপন
সযত্নে পুষে রাখা মন পাখিটির মতন।
না কোন ভুল নয় হয়ত সেই ছিল
যখন ছিলাম আমি মৃতের মত জীবিত
কিংবা নেশাগ্রস্থদের মতো ঘুমন্ত।
তখন সে এসেছিল আমাকে জাগাতে বা
মধুর স্বপ্নের ভেতর আমাকে রাগাতে।

আমাদের বাবা চাচারা বা তাদের দাদারা
বা তাদের দাদাদের পর দাদারা কোন এককালে
প্রাণপ্রিয় বন্ধু ছিলেন বা ছিলেন আপন দু ভাই
যেন একই শাখায় সদ্য-জন্মানো দুটো কুড়ি।

তখন হয়ত আগুন ছিল
কিন্তু আগুন তখনো পুড়াতে শিখেনি মানুষের ঘর,
তখন হয়ত পাখিও ছিল কিন্তু পাখিও জানত না
আগুনে পুড়লে ডানা আর অক্ষত থাকে না।

তখন আগুনে পুড়লে মানুষটির ঘর
তাকে কভু কি আর আমার আপন মনে হতো,
আমার ফাগুনেও সে আগুন দিয়ে জয়োল্লাসে নামত।
পাখিটিও তার ক্ষয়ে যাওয়া ডানার শোকে
হরতাল বা অনশন ডেকে বিলাপ করত।
আর আমি ১৪৪ ধারার ভয়ে চায়না তালায়
দিতাম আরেকটি মোচর ।